প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 11, 2026 ইং
হালিশহরে গভীর রাতে আপত্তিকর অবস্থায় তরুণ-তরুণী আটক

হালিশহরে গভীর রাতে আপত্তিকর অবস্থায় তরুণ-তরুণী আটক: স্থানীয়ভাবে ‘দফাফাটি’র অভিযোগে জনমনে ক্ষোভ
পারভেজ বাঙালী।
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি।
চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানার চৌধুরীপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক তরুণ ও তরুণীকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। তবে আটকের পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে না দিয়ে রহস্যজনকভাবে স্থানীয় একটি মহলের মাধ্যমে রফাদফা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র সপ্তাহখানেক আগে চৌধুরীপাড়ার ওই বাসাটি ভাড়া নেয় অভিযুক্তরা। বাসাটি ভাড়া নেওয়ার পর থেকেই সেখানে বহিরাগতদের আনাগোনা ও সন্দেহজনক যাতায়াত আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গভীর রাত পর্যন্ত ওই বাসায় মাদক (ইয়াবা) সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলত।
বিষয়টি টের পেয়ে গত রাতে এলাকাবাসী ও স্থানীয় যুবসমাজ ওই বাড়িটি ঘেরাও করে। একপর্যায়ে ঘরের ভেতর থেকে আপত্তিকর অবস্থায় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়ির মালিককে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন।
পুলিশের অনুপস্থিতি ও রহস্যজনক ‘মীমাংসা’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আটকে রেখে বাড়ির মালিকের উপস্থিতিতে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা চলে। কিন্তু অপরাধীদের পুলিশে সোপর্দ করার পরিবর্তে কেন বা কার ইশারায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হলো, তা নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের সমঝোতা বা ‘মিউচুয়াল’ করার কারণেই অপরাধীরা পার পেয়ে গেছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এই ধরণের স্পর্শকাতর বিষয়ে আইনের আশ্রয় না নিয়ে স্থানীয়ভাবে রফাদফা করায় এলাকায় মাদকের বিস্তার ও অপরাধ প্রবণতা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চৌধুরীপাড়ার এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন,—
"মাদক ও অসামাজিক কাজ কোনো সামাজিক পরিবেশকে নিরাপদ রাখতে পারে না। আমরা অপরাধীদের ধরেছিলাম যেন তাদের শাস্তি হয়। কিন্তু যারা মাঝখান থেকে এই ঘটনার রফাদফা করে অপরাধীদের বাঁচিয়ে দিল, তাদেরকেও তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা উচিত।"
আইন নিজের হাতে নয়, চাই সঠিক পদক্ষেপ
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ক্ষোভের আগুন আরও ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন নাগরিকদের দাবি, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। অপরাধের সঠিক প্রমাণসহ দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করাই নাগরিকদের মূল দায়িত্ব।
হালিশহরের চৌধুরীপাড়ার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পেছনে কারা ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে কাজ করেছে এবং কারা অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে, তা খুঁজে বের করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪